হোয়াইটওয়াশ নিউজিল্যান্ড, শীর্ষে উঠল ভারত

খেলাধুলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০:৫০:৪৩এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩

সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। শেষ ওয়ানডেতেও নিউজিল্যান্ডকে ছাড় দিলো না ভারত। রোহিত শর্মা আর শুভমান গিলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩৮৫ রানের পাহাড় গড়লো স্বাগতিকরা। জবাবে ২৯৫ রানে অলআউট হলো কিউইরা। ইন্দোরে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ভারতের জয় ৯০ রানে। তিন ম্যাচ সিরিজের সবকটিতেই জিতল স্বাগতিকরা। দারুণ এই জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠল ভারত। আর শীর্ষে থেকে সিরিজ শুরু করা নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অবস্থান চার নম্বরে।

কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর রোহিত বলেছিলেন, সহসাই আসবে তার সেঞ্চুরি। পরের ম্যাচেই ৮৫ বলে ১০১ রান করলেন তিনি। তার ইনিংসে ৬ ছক্কার সঙ্গে চার ৯টি। এই সংস্করণে ২০২০ সালের জানুয়ারির পর সেঞ্চুরি দেখা পেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা গিল এদিন খেলেন ৫ ছক্কা ও ১৩ চারে ৭৮ বলে ১১২ রানের ইনিংস। এই সিরিজে তার রান মোট ৩৬০। তিন বা এর কম ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে বাবর আজমের সঙ্গী তিনি। সফরকারীদের হয়ে একাই লড়াই করা কনওয়ে ১০০ বলে করেন ১৩৮ রান। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির ইনিংস সাজান তিনি ৮ ছক্কা ও ১২ চারে।

হলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রোহিত ও গিল। লকি ফার্গুসনকে ওভারে চারটি চার ও এক ছক্কা মারেন গিল। জ্যাকব ডাফিকে এক চারের সঙ্গে দুটি ছক্কায় ওড়ান রোহিত। রোহিত-গিলের ঝড় চলতে থাকে পরেও। ৩৩ বলে ফিফটি করেন গিল, রোহিতের পঞ্চাশ আসে ৪১ বলে। রানের গতি বাড়িয়ে ইনিংসের ২৬তম ওভারে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন দুইজনই। চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গিল ৭২ বলে। রোহিত ৮৩ বলে স্পর্শ করেন ৩০তম সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রোহিত। তাদের ওপরে আছেন শচিন টেন্ডুলকার (৪৯টি) ও বিরাট কোহলি (৪৬টি)। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের ওভারেই মাইকেল ব্রেসওয়েলকে ছক্কার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান ভারত অধিনায়ক। ভাঙে গিলের সঙ্গে তার ২১২ রানের জুটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে যা ভারতের সর্বোচ্চ।

পরের ওভারে ব্লেয়ার টিকনারের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান গিলও। ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কোহলি (৩৬)। ইশান কিষান, সূর্যকুমার যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দরও ফিরে যান দ্রুত। একপ্রান্তে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তিনটি করে ছক্কা-চারে ৩৮ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৫৪ রানের জুটির পথে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ২৫ রান করেন শার্দুল।

রান তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ফিন অ্যালেনকে বোল্ড করে দেন পান্ডিয়া। ওই ধাক্কা সামলে ওঠে কিউইরা কনওয়ে ও নিকোলসের ১০৬ রানের জুটিতে। ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৪২ রান করা নিকোলসকে ফিরিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন কুলদিপ যাদব। এরপর ড্যারিল মিচেলকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়েন কনওয়ে। ৭১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। পরপর দুই বলে মিচেল ও টম ল্যাথামকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান শার্দুল। সেই স্বাদ না পেলেও পরের ওভারে এই পেসার গ্লেন ফিলিপসকে বিদায় করে নিউজিল্যান্ডের আশা প্রায় গুঁড়িয়ে দেন। উমরান মালিকের বলে রোহিতের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কনওয়ে। এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেনি সফরকারীরা। ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন শার্দুল। অনুমিতভাবেই সিরিজ সেরা হন গিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ৩৮৫/৯ (রোহিত ১০১, গিল ১১২, কোহলি ৩৬, কিষান ১৭, সূর্যকুমার ১৪, পান্ডিয়া ৫৪, ওয়াশিংটন ৯, শার্দুল ২৫, কুলদিপ ৩, উমরান ২*; ডাফি ১০-০-১০০-৩, ফার্গুসন ১০-১-৫৩-০, টিকনার ১০-০-৭৬-৩, স্যান্টনার ১০-০-৫৮-০, মিচেল ৪-০-৪১-০, ব্রেসওয়েল ৬-০-৫১-১)

নিউজিল্যান্ড: ৪১.২ ওভারে ২৯৫ (অ্যালেন ০, কনওয়ে ১৩৮, নিকোলস ৪২, মিচেল ২৪, ল্যাথাম ০, ফিলিপস ৫, ব্রেসওয়েল ২৬, স্যান্টনার ৩৪, ফার্গুসন ৭, ডাফি ০, টিকনার ০*; পান্ডিয়া ৬-০-৩৭-১, ওয়াশিংটন ৬-০-৪৯-০, শার্দুল ৬-০-৪৫-৩, উমরান ৭-০-৫২-১, কুলদিপ ৯-০-৬২-৩, চেহেল ৭.২-০-৪৩-২)

ফল: ভারত ৯০ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: শার্দুল ঠাকুর

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ তে জয়ী ভারত

ম্যান অব দা সিরিজ: শুবমান গিল