হঠাৎ আবারও ইউক্রেন সফরে বরিস জনসন

আন্তর্জাতিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩:৫৩:৫৮পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩

হঠাৎ আবারও ইউক্রেন সফর করলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সফর রাজধানী কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেনি তিনি। এছাড়াও তিনি শহরের কিছু অংশ ঘুরে দেখেছেন। তার এই সফরের আগে এ সম্পর্কে কোনও ঘোষণা ছিল না।

জানা গেছে, কিয়েভে বরিসন জনসনকে সশরীরে স্বাগত জানান জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের কয়েকজন মন্ত্রী। এ বিষয়ে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জেলেনস্কি লিখেছেন, “আমি বরিস জনসনকে স্বাগত জানাই, তিনি ইউক্রেনের একজন সত্যিকারের বন্ধু। বরিস, আপনার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।” বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বরিস জনসনের এই সফরের কথা তুলা ধরা হয়েছে।

 ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সফরে কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছোট শহর বুচা এবং বোরোদিয়াংকাও পরিদর্শন করেছেন বরিস জনসন। গত বছরের মার্চ মাসে এসব শহর দখল করেছিল রুশ বাহিনী। এরপর হঠাৎ করেই এ অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে দক্ষিণ ইউক্রেনে মোতায়েন করে রাশিয়া। রুশ সেনারা চলে যাওয়ার পর এসব শহরে বেসামরিক মানুষের বেশ কিছু মরদেহ পাওয়া যায়।

তখন এ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিল ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা। বুচার মেয়রকে জনসন বলেন, আমি আপনাকে বলতে পারি, যতদিন প্রয়োজন ঠিক ততদিনই ব্রিটেন ইউক্রেনের পাশে থাকবে। আপনারাই (ইউক্রেন) জিততে যাচ্ছেন এবং আপনাদের দেশ থেকে রাশিয়ার সবাইকে তাড়াতে চলেছেন। কিন্তু আমরা এখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকব এবং আমরা আপনাদের দেশ পুনর্গঠনের কাজেও সাহায্য করতে চাই। 

জনসন বলেন, ইউক্রেনের জনগণের দুর্দশা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে ইউক্রেনের জয় এবং যতদ্রুত সম্ভব তা নিশ্চিত করা। এখনই সময় ইউক্রেনের জয় নিশ্চিতে যা দরকার তা তাদেরকে দেওয়া। যত দ্রুত পুতিন হারবেন ইউক্রেন ও বিশ্বের জন্য ততই ভালো।

জনসনের এই ইউক্রেন সফরকে সমর্থন দিয়েছেন ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও। তার প্রেস সেক্রেটারি এক বিবৃতিতে বলেন, “ব্রিটেন ইউক্রেনের সঙ্গে আছে এমন বার্তা দেওয়া সহকর্মীদের প্রতি সবসময় প্রধানমন্ত্রী সুনাকের সমর্থন রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও তাদের সমর্থন দিয়ে যাবেন।”

জনসন এমন এক সময় ইউক্রেন সফরে গেলেন যখন রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমশ অগ্রসর হতে শুরু করেছে। এর আগে গত বছরের আগস্টের শেষ দিকেও যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন সফর করেছিলেন বরিস জনসন। তখন তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সে সময়ও ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এসেছিলেন বরিস জনস।